Wednesday, February 11, 2026

প্রার্থনা

আগামীকাল সকালে নির্বাচন। একটা মেটিকুলাস ডিজাইনিং এ দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করে জাতির জন্মক্ষণে পরাজিত হওয়া শ্বাপদদের বংশজরা রাষ্ট্রের চালকের আসনে সরাসরি না বসে কিছু এজেন্ট দিয়ে দেড় বছরে অপরিসীম ক্ষতি করবার পর রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটা প্রক্রিয়ায় অবশেষে এসেছে।  
 
এই সময়ে এসে মনে পড়ছে নিকট অতীতে একজনকে বলতে শুনেছিলাম, 'এত গাছপালা দিয়া কী হবে? সুন্দরবনের আদতে কোন দরকারই নাই। ঘুর্নিঝড়গুলো থেকে যে সুন্দরবনের কারণেই অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায় এগুলা বাজে কথা। নদী খাল বিল দিয়ে আসলে খুব একটা উপকার হয় না। পশু পাখি মাইরা সাফ করে ফেলাটা খুবই দরকারি।' তাকে দেখেছি অন্যের সময় নিয়ে বেশ সোচ্চার থাকলেও নিজের সময়জ্ঞান খুব একটা নাই, এবং আচরণেও বেশ তুখোড় একটা ছোটলোক।

তার থেকে একটু বেশি অতীতে আরেকজনের জমির মধ্যে সুযোগ পেলেই দুই হাত করে ঢুকে যাওয়া এক হক্বপন্থীর কাছ থেকে পরিমাপে কম দিলে কী কী গুনাহ হয় তার ব্যাখ্যা শুনেছিলাম আধা ঘণ্টা ধরে।

এই দুই অতীতের মাঝের অতীতে এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয়েছিল যিনি প্রবাসীদের স্ত্রীদের একাকীত্ব দূর করে বেড়াতেন! এতখানি বিশ্বাস অর্জন করে ফেলেছিলাম যে তালিকা ধরে ধরে বর্ননা শোনার দুর্ভাগ্য হয়েছিলো।

যে তিনজনের কথা উল্লেখ করলাম তারা গুপ্ত এবং মোনাফেক। সেটা ব্যাক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রেই। সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই প্রার্থনা, জাতি হিসেবে নমক হারামির শাস্তি যেন এই মোনাফেকদের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়ে না দেন!

Saturday, January 17, 2026

বিষন্ন শীতের রাতে

তাপমান তখন দশ এর নিচে।

রাত ৯ টা নাগাদ মসজিদের সামনে ফুটপাতে তিনটে জীর্ণ কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে থাকা হাড্ডিসার লোকটাকে পাশ কাটিয়ে যখন ফিরছিলাম তখনই চোখে পড়ল বিদঘুটে শব্দ করা একটা বাইকে চড়ে হয়তো বাড়ি ফিরছে এক কপোত কপোতি। 

'ওরম একটা মাল সাথে থাকলি আর আর ঠান্ডা লাগতো না, সাউয়ো!' স্বগতোক্তি করে উঠল লোকটা। আমি এক নজর চোখ বুলিয়ে দেখলাম লোকটাকে। নেশা করতে করতে শরীরের শুধু হাড় গুলো অবশিষ্ট আছে হয়তো। তিনটে কম্বলের ভার নিতেই তার মনে হচ্ছে দম বেরিয়ে যাচ্ছে। চোখ দুটো কোটরে। উসকো কুসকো চুল আর অবিন্যস্ত দাড়িগোফ। 

'আল্লাহ খালি ওগেই দেহে। আমাগে তার চোহি পড়ে না।'- বলতে বলতে লোকটা বিষন্নতার রাজ্যে ডুবে গেল। 

আমি না শোনা না দেখার ভান করে একটু সামনে গিয়ে একটা সিগারেটের দোকানে দাঁড়ালাম। ক্যামেল এ টান দিয়ে ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে আমিও ভেসে বেড়াতে লাগলাম বিষন্নতার রাজ্যে, সমাজের আগাছা পরিষ্কার করতেও আইন বাধা দেয় বলে। 

Friday, December 19, 2025

প্রিয়, তোমার উদ্দেশ্যে

 প্রিয়,


আগুনের তাপে নিশ্চয় ভালো আছো?
ভালো আছো পোড়া গন্ধে-
নিঃশ্বাস বন্ধ করা ধোঁয়ায়।
ভাল অবশ্য তোমার থাকবার কথা
গ্লাস ভাঙবার শব্দে,
আর,
দরজার ওপাশে থাকা
আধামানবগুলোর ঘোৎ ঘোৎ স্লোগানে।

তোমার ভাল থাকবারই কথা
গাছে বাঁধা এক তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের
ফ্রাইড হবার আনন্দে শীৎকারের শব্দ শুনে!

আচ্ছা, ফ্রন্ট পেজে ফটোশপ করার জন্য

হাই কনফিগারের ল্যাপিটা আছে তো?
এবার ওতে সাউন্ড ইফেক্ট দারুন করবার
অ্যাপ্লিকেশানটা নামিও।

ডলারগুলো কী এনক্যাশ করেছো?
নাকী বিমানবন্দরে বসে ন্যাকা অনুচ্ছেদ লিখে
বিদায় নিয়ে পশ্চিমে সেটল হয়ে শো অফ
করবার অপেক্ষায় আছো?

প্রিয়,

তুমি ভাল থাকবে তা জানি।

কিন্তু, জগৎজ্যোতির সন্তানেরা তোমার কারনে 
ভাল নেই।
চাপ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা 
যে জারজ ফ্রাংকেস্তাইনদের তুমি জাগিয়েছো
তারা ধ্বংস চেনে।
তারা ভাঙবে পোড়াবে সব কিছু।
যখন পশ্চিমের কোন দেশে কফির কাপে 
চুমু দিতে দিতে তুমি
আবেগী অনুচ্ছেদ লিখবে সামাজিক মাধ্যমে!

Saturday, December 13, 2025

ডিপ্রেশন


থমকে থমকে দাঁড়াই মুহুর্তে মুহুর্তে
শব্দের মালা আটকে যায় চিন্তার জালে। 
স্তুতিমূলক শব্দগুলো বেরোয় ঘৃণার প্রতিশব্দ হয়ে,
লজ্জায় মাথাটা নিচু হয়ে আসে,
মাধ্যাকর্ষন শক্তিকে অস্বীকার করে দাঁড়িয়ে থাকি ঠায়
বুকটা টান করে।  
 
স্বপ্ন গুলো দাফন করা হয়েছিলো বহু আগেই
এখন অস্তিত্বহীন সেই অতৃপ্ত অশরীরি 
ভর করে থাকে 
মস্তিষ্কের নিউরনে আঠার মত। 
 
বিস্বাদে, বিরহে, ক্লান্তিতে ভেসে যাওয়া একটা প্রাণ!
লোকে গালভরে একে ডিপ্রেশন বলে!